Tuesday July 14, 2020

২৫ হাজার পাটকল শ্রমিককে দেওয়া হচ্ছে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক

a38 ২৫ হাজার পাটকল শ্রমিককে দেওয়া হচ্ছে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক

সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।  এগুলো পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চলবে।  আজ রোববার (২৮ জুন) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

পাটমন্ত্রী জানান, সরকারি ২৫টি পাটকলে এই মুহূর্তে ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসর দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও পাওয়া গেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও জানান পাটমন্ত্রী। তিনি আন্দোলনরত পাটল শ্রমিকদের ঘরে ফিরে যাওয়ারও অনুরোধ করেন। গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছেন, সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাটকলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। সরকারের পক্ষে বছরের পর বছর পাটকলের এত লোকসান বহন করা সম্ভব নয়।  পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গত ৪৮ বছরে সরকারকে এই পাট খাতে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সব সময় লোকসান হচ্ছে।  সে কারণে সরকার চিন্তা করেছে কীভাবে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকর মাধ্যমে কারখানাগুলোকে আধুনিকায়ন করে এগিয়ে নিতে পারি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের ক্ষতি না করে তাদের লাভবান করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

করোনার এই সময়য়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো- প্রশ্নে পাটমন্ত্রী বলেন, এই সিদ্ধান্ত ছয় মাস আগের। এই সময়ে তো তাদের টাকার প্রয়োজন হবে। গোল্ডেন হ্যান্ডশেক হলো স্থায়ী শ্রমিককে মজুরি কমিশন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া। সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, পাটকলগুলোতে ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের চাকরির অবসান করতে। পাশাপাশি অবসরে যাওয়া শ্রমিকরাও লাভবান হবে বলে জানান সচিব। তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত ৮ হাজার ৯৫৪ জন শ্রমিকের প্রাপ্য সকল বকেয়া, বর্তমানে কর্মরত ২৪ হাজার ৮৮৬ জন শ্রমিকের প্রাপ্য বকেয়া মজুরি, শ্রমিকদের পিএফ জমা, গ্রাচ্যুইটি এবং সেই সাথে গ্রাচ্যুইটির সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ হারে অবসায়ন সুবিধা একসাথে শতভাগ পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারি বাজেট হতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হবে। পাট সচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোতে ২০১৩ থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৫৪ জন পাটকল শ্রমিক অবসরে গেছেন। অব্যাহত লোকসানের কারণে অর্থ সংকটে তাদের অবসর ভাতা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এসব শ্রমিক গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের টাকা পাবে এবং তখন এসব শ্রমিক সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সচিব বলেন, করোনা মহামারি না হলে এ বছর লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হতো। পাটখাতের যে সম্ভাবনা তা যদি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আগামী তিন-চার বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার অর্জন করা সম্ভব হবে।  ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সময়যোপযোগী গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে এটাকে আরও উৎপাদনমুখী, কল্যাণকর ও জনবান্ধব করার পদক্ষেপ নিয়েছেন’, বলেন সচিব।

 

Filed in: অর্থ-বানিজ্য