Saturday October 31, 2020

উহানের ল্যাবে করোনাভাইরাস ছিল, কিন্তু বিশ্বে ছড়িয়ে পরা সঙ্গে তার মিল নেই

a52 উহানের ল্যাবে করোনাভাইরাস ছিল, কিন্তু বিশ্বে ছড়িয়ে পরা সঙ্গে তার মিল নেই

বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের সঙ্গে এর মিল নেই বলে দাবি করেছেন উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির পরিচালক ওয়াং ইয়েনি। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল সিজিটিএন-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাদের ল্যাবে থাকা ভাইরাসের সঙ্গে নতুন ভাইরাসের মিল ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ, আর ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বিশাল।

ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহানে প্রথম ঘটে করোনা সংক্রমণ। তারপর তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বে। রূপ নেয় মহামারিতে। শুরু থেকেই ভাইরাসটি উহানের ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে অভিযোগ তোলেন অনেকেই। এর মধ্যে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

এ অবস্থায় চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির পরিচালক ওয়াং ইয়েনি। তিনি জানান, তাদের কাছে থাকা ভাইরাস ও মহামারির কারণ যে ভাইরাস সেটি এক নয়।

ওয়াং ইয়েনির সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত অধ্যাপক শি ঝেঙ্গি জানিয়েছেন, দু’দশক আগে প্রাণঘাতী সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম-এ (সার্স) হানা দিয়েছে। তার উৎপত্তি খুঁজে বার করতে ২০০৪ সাল থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন তাঁরা। কিন্তু সার্স-কোভিড-২ ও সার্সের মধ্যে ৮০ শতাংশ মিল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এই পার্থক্যটা অনেকটাই।

উহানের ওই গবেষণাগার থেকে কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে বলে দীর্ঘ দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা চলছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেয়ো সেই সুরে গলা মেলানোয়, তা আরও বেশি গুরুত্ব পায়। তবে ওয়াং ইয়েনি সাফ জানিয়েছেন, গতবছর ৩০ ডিসেম্বর প্রথম অজানা এক ভাইরাসের নমুনা হাতে পান তাঁরা। এ বছর ২ জানুয়ারি ভাইরাসটির জিনের গঠন নির্ধারণ করে ১১ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) হাতে তার রিপোর্ট তুলে দেন।

ওয়াং ইয়েনি বলেন, আমাদের ল্যাবে বাদুড় থেকে নেয়া করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা চলছিল। এখন সেখানে তিনটি লাইভ স্ট্রেইন আছে। তবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের সঙ্গে এর মিল ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ। সাধারণ মানুষ এটিকে হয়তো অনেক কাছাকাছি ভাববেন, তবে ভাইরোলোজিস্টরা জানানে, ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পার্থক্য অনেক বড়।

৩০ ডিসেম্বর ওই নমুনা হাতে পাওয়ার আগে পর্যন্ত কোভিড-১৯ ভাইরাস সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন ওয়াং। তিনি বলেন, ‘‘ওই ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে, তা-ই জানতাম না আমরা। আমাদের কাছে ওই ভাইরাস ছিলই না, তাহলে গবেষণাগার থেকে ভাইরাস লিক হওয়ার কথা আসছে কোত্থেকে?’’  উহানের ওই গবেষণাগার থেকেই ভাইরাস ছড়িয়েছিল, মার্কিন সরকার এমন কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি বলে জানিয়েছে হু-ও।

Filed in: স্বাস্থ্য