Monday January 18, 2021

গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার ২৩ শতাংশ নারী: অ্যাকশনএইড

1292 গণপরিবহনে যৌন হয়রানির শিকার ২৩ শতাংশ নারী: অ্যাকশনএইডঢাকা শহরের প্রায় ২২.৫ শতাংশ নারী বাইরে বের হয়ে বাস সহকারী, চালক বা সহযাত্রীর কাছ থেকে যৌন হয়রানির শিকার হন।  অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ‘নারী সংবেদনশীল নগর-পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। শনিবার বিশ্ব নিরাপদ শহর দিবস উপলক্ষে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৭৮.৫ শতাংশ নারী বলেছেন, বাসের সংখ্যা অপ্রতুল। রাজধানীর ৮৬ শতাংশ নারী যানজট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তাদের প্রকাশিত গবেষণা মতে, গণপরিবহনে চলাচলকারী ৮৬ শতাংশ নারী যানজট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। পরিবহন ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ৫৬ শতাংশ নারী বাইরে যেতে চান না বলে জানান। প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী বলেছেন, বাসের চালক বা সহকারী তাদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেছেন।

২০ মে শনিবার ‘নারী সংবেদনশীল নগর-পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ সব তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব নিরাপদ শহর দিবস উপলক্ষে নিজ কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।

২০১৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে নগরের বিভিন্ন বয়সী ও পেশার ২০০ জন নারীর মধ্যে গবেষণাটি চালানো হয়। গবেষণাটি বলছে, এই নারীদের ৯৪ শতাংশ নানা কারণে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন না। এমনকি পুরুষ সঙ্গী ছাড়া তারা একা এসব টয়লেট ব্যবহার নিরাপদ মনে করেন না।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ২০০ জন নারীর অনেকেই ফুটপাতকে হাঁটার উপযোগীও মনে করেন না। ৭২ শতাংশ নারী বলেন, ফুটপাতগুলো নির্মাণসামগ্রী, হকার ও দোকানদারদের দখলে।

গবেষণাটি বলছে, ৮৭ শতাংশ নারী পার্ক ও উদ্যান সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলেছেন। রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যাসহ পার্ককে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থান মনে করেন অনেক নারী।

অনুষ্ঠানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, এই নগরের (ঢাকা) অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। অথচ শহরটি নারীবান্ধব নয়। যারা হেঁটে কষ্ট করে চলাচল করেন, তাদের জন্য এই শহর নয়।

দেশের রাজনীতিবিদেরা কতটুকু হাঁটেন অথবা অথবা তাদের সন্তানেরা বাসে-রিকশায় চলাচল করে কি না, প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ জন্য নগরে বৈষম্য বাড়ছে। নগরটি পুরুষতান্ত্রিক হয়ে পড়ছে। এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আখতার মাহমুদ। তিনি বলেন, একজন পুরুষের তুলনায় শহরের নারীর জীবনযাপনের বাস্তবতা ভিন্ন এবং অনেক জটিল। এ সমস্যা সমাধানে নগর-পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত নারীর অংশগ্রহণ থাকতে হবে।

কিশোরীদের জন্য খেলার মাঠ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, নারীর উন্নয়ন কেবল ভাবনার মধ্যে রাখলে হবে না। তাদের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নগরের বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করতে হবে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সম্মানসূচক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক এম খলিলুর রহমান বলেন, ভালো ও পর্যাপ্ত টয়লেট-সুবিধা না থাকায় নারীদের ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন বেশি হয়।

এতে আরও জানানো হয়, বিচ্ছিন্নভাবে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়। এতে গরিব, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ নারী ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। এমনকি তাঁদের কথা বিবেচনাও করা হয় না। অথচ সমাজের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। নারীর জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন নগর তৈরি করতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে একটি মুক্ত আলোচনার পর্ব অনুষ্ঠিত হয়; যেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্নসহ নানা বিষয়ে মত দেন।

Filed in: স্বাস্থ্য