Sunday May 19, 2019

সারা বছরই সুস্থ থাকতে পারবেন

19 সারা বছরই সুস্থ থাকতে পারবেন

রোগশোক বলে-কয়ে আসে না। তারপরও নিজে স্বাস্থ্য সচেতন থাকলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার খরচটা বাচে। এমনকি থাকতে পারেন সারা বছরটাই সুস্থ। আর এজন্য চাই ব্যক্তিগত সচেতনতা। কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত সেগুলোই জানানো হলো স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান: নতুন বছরে প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা হাতে নিন। ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা খাবারের পরিবর্তে তাজা ফল আর সবজি বেছে নিন। এতে খাদ্যাভ্যাস যেমন হবে স্বাস্থ্যকর তেমনি মিলবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিন।

গ্যাজেটে সময় কম: প্রযুক্তি নির্ভর এই যুগে আমাদের অধিকাংশ সময় কাটে কোনো না কোনো গ্যাজেটের সঙ্গে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। এখানেই নতুন করে ভাবতে হবে। চেষ্টা করতে যতটা সম্ভব কম সময় গ্যাজেটের সঙ্গে কাটানোর।

পর্যাপ্ত ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আধুনিক যুগে সাধারণ কিন্তু মারাত্বক সমস্যা। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। অন্যথায় একজন ব্যক্তি থাকবে ক্লান্ত, মন মেজাজ থাকবে খিটখিটে। আর এমনটা নিয়মিত ঘটতে থাকলে মানসিক শক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে, বাড়বে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত জটিলতার আশঙ্কা। তাই নতুন বছরের পরিকল্পনার মধ্যে নিজের ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনাটা অবশ্যই থাকা উচিত।

বছরে একবার পরীক্ষা করা: রোগে না পড়লে কেউ ডাক্তারের কাছে যায় না, এমনটাই আমাদের দেশে স্বাভাবিক ঘটনা। চিকিৎসকরা বারবার সাধারণ ‘চেক-আপ’য়ের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিলেও সাধারণ মানুষ তা আমলে নেন না। তবে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগে থাকলে রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

শারীরিক পরিশ্রম: শরীর ভালো রাখতে চাইলে শরীরকে পরিশ্রমের মধ্যে রাখতে হবে, সুঠাম রাখতে হবে। প্রতিদিন আধা ঘণ্টা হলেও শরীরচর্চা করতে হবে। মাঝেমধ্যে লিফ্ট বাদ দিয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে এমন ছোটখাট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব।

মাদক থেকে দূরে: নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মদ্যপানের আসর আজকাল সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর যারা অভ্যস্ত, তারা তো প্রায় প্রতিদিনই কয়েক চুমুক না দিয়ে ক্ষান্ত হন না। অপরদিকে আছে ধূপমান ও অন্যান্য ধরনের মাদকদ্রব্য।

এদের সবগুলোই শরীরের জন্য ক্ষতিকর, যা সেবনকারীরা নিজেরাও ভালোমতোই জানেন। তাই নতুন বছরের নতুন প্রতিশ্রুতি যদি মাদকমুক্ত জীবন গড়া হয় তাহলে এর চাইতে ভালো কিছু আর হতে পারে না।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: জীবন মানেই নানান মানসিক চাপ। ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, কর্মজীবন সবখানেই আছে নানান জটিলতা। আর এদের সঙ্গে মোকাবেলা করার নামই যেন বেঁচে থাকা। মানসিক চাপ এড়ানো যখন সম্ভব নয়, তখন তা নিয়ন্ত্রণে সুকৌশলী হওয়া উচিত।

অযথাই ওষুধ না খাওয়া: রোগ হলেও টপাটপ ওষুধ গেলা মোটেও ভালো অভ্যাস নয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অনেকেই আবার সাতপাঁচ না ভেবে নিজের মনের মতো ওষুধ সেবন করে যান, ফার্মেসিগুলো থেকে চাইলেই ওষুধ সংগ্রহ করাটাও এর অন্যতম কারণ। তবে নিজের মঙ্গলের কথা ভাবতে ফার্মেসিওয়ালার বাধ্য নয়, তাই নিজে সচেতন হন, সামান্য কারণে ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকুন।

রক্তচাপ: নিজের রক্তচাপ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকাটা প্রত্যেকের জন্য জরুরি। সেই সঙ্গে রক্তচাপ স্বাভাবিকের থেকে কম কিংবা বেশি হয়ে যাওয়ার লক্ষণ এবং সেক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কেও সঠিক ধারণা থাকা চাই। এতে ভবিষ্যতে অনেক বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচা যায়।

Filed in: স্বাস্থ্য