Sunday December 16, 3500

কফ সারানোর সহজ উপায়

173  কফ সারানোর সহজ উপায়
ঠাণ্ডা লেগে বুকে শ্লেষ্মা বা কফ জমলে বেজায় অস্বস্তি হয়। সেই সঙ্গে থাকে গলায় বা বুকে ব্যথা। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য রয়েছে প্রচলিত প্রাকৃতিক পন্থা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এসব প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কয়েকটি পন্থা এখানে দেওয়া হল।

লেবু ও মধু: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন দুতিনবার এই পানীয় খেতে হবে। মধু বুক ও গলায় আরাম দেবে আর লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।

গরম দুধ: গরম দুধে মধু, হলুদ, গোলমরিচ মিশিয়ে খাওয়া বুক কফ জমা ও সর্দি-কাশি সারাতে অত্যন্ত উপকারী। হলুদে আছে ব্যাকটেরিয়া ও সংক্রমণ রোধকারী উপাদান, গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে, সারায় কফ ও সর্দি। প্রতিদিন দুবার পান করতে হবে।

কুসুম গরম পানি পান: ঠাণ্ডা লাগলে কুসুম গরম পানি পান করলে গলায় আরাম হয়। বুকে জমা কফও সেরে উঠতে থাকে ক্রমেই। শ্বাসনালী ও বুকে জমে থাকা সর্দি গলিয়ে ফেলতে কুসুম গরম পানি অত্যন্ত কার্যকর।

গরম পানি দিয়ে গড়গড়া: বুকে জমা কফ ও গলার সমস্যা সারাতে এই পদ্ধতি সম্ভবত সবচাইতে বেশি প্রচলিত। এক গ্লাস গরম পানিতে আধা টেবিল-চামচ লবণ মিশিয়ে এক থেকে দুই মিনিট গড়গড়া করতে হবে। দিনে তিন থেকে চারবার পদ্ধতিটি অনুসরণ করলে বেশি উপকার মিলবে। তবে এই পানি গিলে ফেলা যাবে না।

চা: আদা, পুদিনা-পাতা, ক্যামোমাইল, রোজমেরি মিশিয়ে চা বানিয়ে পান করাও এক্ষেত্রে বেশ উপকারী। চিনির বদলে মধু ব্যবহার করলে মিলবে বাড়তি উপকার। চা ভালো না লাগলে আদা চিবিয়ে খেতে পারেন।

বাষ্প: পানিতে ইউক্যালিপ্টাস তেল মিশিয়ে তার বাষ্প নিশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে বুকে জমা কফ দূর করতে সাহায্য করবে। বাষ্প নেওয়ার সময় জোরে শ্বাস নিতে হবে, বন্ধ নাক ও বুকে জমা কফের অস্বস্তি থেকে আরাম মিলবে দ্রুত। ইউক্যালিপ্টাস তেলে আছে যন্ত্রণানাশক ও ব্যাকটেরিয়া রোধকারী উপাদান যা এতে সহায়ক।

ব্ল্যাক কফি: অস্বস্তি থেকে সাময়িক আরাম মেলে ব্ল্যাক কফি পান করলে। আর জমে থাকা সর্দি গলাতেও উপকারী। তবে দিনে দুই কাপের বেশি পান করা যাবে না, কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

coffee  কফ সারানোর সহজ উপায়হলুদ: গরম পানিতে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে গড়গড়া করলে বুকে কফ জমা থেকে মুক্তি মিলবে। কারণ হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ জমে থাকা সর্দি কাটাতে কার্যকর। আর ব্যাকটেরিয়া নিধনেও হলুদ সহায়ক ভূমিকা রাখে।

পেঁয়াজের নির্যাস: এতে থাকা ‘কুয়ারসেটাইন’ সর্দি দূর করে এবং আবার জমতে বাধা দেয়, সংক্রমণ থেকেও বাঁচায়। পেঁয়াজের রস বের করে তাতে লেবুর রস, মধু ও পানি মিশিয়ে নিতে হবে। পরে কুসুম গরম করে পান করতে হবে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার।

তবে ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের আগে উপকরণগুলোতে ব্যক্তিগত সমস্যা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Filed in: স্বাস্থ্য