Thursday December 16, 3069

না ফেরার দেশে শিল্পী ও গীতিকার সুব্রত সেনগুপ্ত

137 না ফেরার দেশে শিল্পী ও গীতিকার সুব্রত সেনগুপ্তচলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, গীতিকার সুব্রত সেনগুপ্ত। আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা  যান। প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন এই শিল্পী। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফোন আসে, তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরে সাড়ে ৬টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সুব্রতর প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে আরও কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গ্রিন লাইফের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন বেশ কিছু দিন। হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পোস্তগলা মহাশ্মশানে, সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সুব্রত সেনগুপ্ত স্বদেশি আন্দোলনের নেতা সুধীর সেনগুপ্তের ছেলে; প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তার মায়ের আপন বোন। একাত্তরে যখন বাঙালির স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়, সুব্রত তখন ঢাকার সেগুনবাগিচায় ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের সংগীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র।
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এক পর্যায়ে কসবা হয়ে আগরতলা চলে যান তিনি।  সেখান থেকে যান কলকাতায়, যোগ দেন বালীগঞ্জ সার্কুলার রোডে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। ‘রক্ত চাই রক্ত চাই, অত্যাচারীর রক্ত চাই’, ‘ছোটরে সবাই বাঁধ ভাঙা অগণিত গ্রাম মজুর কিষাণ’, ‘শোন জনতা গণ জনতা’সহ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গাওয়া মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু গান সুব্রত সেনগুপ্তর রচনা করা। গীতিকার সুব্রত একুশে ফেব্র্রুয়ারি নিয়ে ১৬০টি গান, আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ৫৫৫টি গান রচনা করেছেন বলে জানান তার স্ত্রী।
জলি সেনগুপ্ত বলেন, ২০১৩ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তার স্বামী শয্যাশায়ী ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও টাকার অভাবে ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারেননি তারা।
সুব্রত-জলি দম্পতির দুই ছেলে শুভদীপ সেনগুপ্ত ও সংগীত সেনগুপ্ত দুজনই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লেখাপড়া করছেন।
Filed in: সাহিত্য সংস্কৃতি