Saturday October 19, 7072

চলন্ত বাসে ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা

1188 চলন্ত বাসে ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসের মধ্যে ঢাকা আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের ছাত্রী রুপা খাতুনকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ওই বাসের চালক ও হেলপারসহ ৫ জনকে আটক করেছে মধুপুর থানা পুলিশ। গেল ২৫ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে বগুড়া থেকে ছোয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ময়মনসিংহ যাওযার পথে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় রূপা।

রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আছানবাড়ী গ্রামের জিলহাস প্রামানীকের মেয়ে। সে ঢাকা আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের এলএলবিতে অধ্যায়নরত ছিল।

রাতেই মধুপুর বনের ভেতরের সড়ক থেকে রূপার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শনিবার অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ দাফন করা হয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রিয় কবরস্থানে। তবে, সোমবার রাতে মধুপুর থানায় গিয়ে রূপার ছবি ও পরনের সালোয়ার কামিজ দেখে লাশ সনাক্ত করে নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান।

মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার বনাঞ্চলের রাস্তার ধারে এক তরুণীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকার খবর পায় মধুপুর থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে আসে।

শারিরিকভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে অপরাধীরা নিরাপদ ভেবে অজ্ঞাত ওই তরুণীর লাশ বনের সড়কে ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করেছে পুলিশ।

নিহতের বড় ভাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে সোমবার (২৮ আগস্ট) রাতে মধুপুর থানায় উপস্থিত হয়ে লাশের ছবি ও পড়নের কাপড় দেখে পরিচয় সনাক্ত করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যর উপর নির্ভর করে অভিযানে নামে পুলিশ।

নিহত রূপার বড় ভাই হাফিজুর প্রামানিক জানান, তার ছোট বোন রুপা খাতুন অনার্স শেষ করে ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজে এলএলবি বিষয়ে অধ্যায়নরত ছিল। পাশাপাশি সে শেরপুর জেলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রোমশনাল ডিভিশনে কর্মরত ছিল। গত শুক্রবার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে সে বগুড়া যায়। পরে পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোয়া পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) একটি বাসে তার এক সহকর্মীর সাথে যাত্রা করে।

তার সেই সহকর্মীর কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় সে এলেঙ্গাতে নেমে যায় এবং রুপা ঐ বাসেই ময়মনসিংহ যাচ্ছিল। কিন্তু সে সঠিক সময়ে ময়মনসিংহ না পৌঁছায় তার সহকর্মীরা মোবাইলে ফোন করলে এক যুবক ফোনটি রিসিভ করে এবং রুপা ভুল করে ফোনটি ফেলে রেখে গেছে বলে জানিয়ে কেটে দেয়। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সকালে কর্মস্থলে না পৌঁছায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ এর শেরপুর অফিস থেকে রুপার বড় ভাই হাফিজুর প্রামানিক এর মোবাইলে রুপা কর্মস্থলে না ফেরার বিষয়টি অবগত করে তারা। পরবর্তীতে রুপার মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে তার বড় ভাই ময়মনসিংহ কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম, অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশটি পাওয়ার পর প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট দেখেই এটিকে শারিরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে ঘটনার পরদিনই অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।

এরপর থেকেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশী তৎপরতা শুরু হয়। সোমবার রাতে নিহত তরুণীর পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর তার বড় ভাইয়ের দেয়া তথ্যর উপর ভিত্তি করে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঐ বাসের চালক হাবি সহ (৩৫) সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Filed in: শিক্ষা