Saturday April 21, 2018

পরিবেশ

বিলুপ্ত প্রজাতী সংরক্ষনে তৈরী হচ্ছে মৎস্য জাদুঘর

ঢাকা: দেশের বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ ও প্রাণী সংরক্ষণ করে রাখার জন্য উপকূলীয় এলাকায় ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকা এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড)-এর জলসীমায় একটি  জাদুঘর তৈরি  করছে মৎস্য অধিদফতর।

মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ষাটের দশকে জাপানের সহায়তায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎসের প্রজাতি, পরিমাণ, মজুদ এবং আহরণের বিষয়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ অংশে জরিপকাজ পরিচালনা করা হয়েছিল। পরে রাশিয়া সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পরে একটি ট্রলার বহরের মাধ্যমে উপকূলীয় ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ইইএডে এলাকায়  জরিপ চালায় এতে ৪৭৫টি সামুদ্রিক মাছ, ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি ও চারটি মৎস্য বিচরণ কেন্দ্র আবিষ্কৃত হয়।

সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী সংগ্রহ করা হয় দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু এগুলো রাখার জন্য দেশে কোনো সংরক্ষণশালা বা মিউজিয়াম না থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও প্রাণী  একটি জাদুঘর তৈরি করা হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী সংগ্রহের জন্য দেশের উপকূলীয় ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকা এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড)- একটি প্রকল্প নিয়েছে মৎস অধিদফতর। এ জাদুঘরটি স্থাপন করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্ত প্রজাতির মৎস ও প্রাণী রক্ষার জন্য এবং আগামী প্রজন্ম যাতে এসব মৎস ও প্রাণী দেখতে পারে সে জন্য এ জাদুঘর তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, মেরিন ফিসারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের জলজ প্রাণী সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। সামুদ্রিক প্রাণির সংগ্রহশালা বা জাদুঘর স্থাপন করা সম্ভব হলে তা দেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। এটি স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এর জন্য সম্ভব ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। তবে তা বাড়তে পারে।

তিনি আরো বলেন, এ জাদুঘরটি হলে দেশের নতুন প্রজম্ম বিলুপ্ত প্রজাতির মৎস ও প্রাণিসম্পদ দেখতে পারবে।

মৎস্য অধিদফতরাধীন চলমান বাংলাদেশ মেরিন ফিসারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মো. এবিএম আনোয়ারুল ইসলাম নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাপ্ত প্রাণীদের একটি সংগ্রহশালা তৈরির চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে ৪৭৫ প্রজাতির মধ্যে ১৮৬ প্রজাতির প্রাণী সংগহ করা হয়েছে।  বাকিদেরও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, সময়ের বিবর্তনে দেশের বেশ কিছু প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সব প্রজাতির প্রাণী সংগ্রহ করা শেষ হলে একটি জাদুঘর তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে এ জাদুঘরের কাজ শুরু হয়েছে।