Wednesday June 26, 2019

নুসরাত হত্যার বিচার চাইলেন বাবা

118 নুসরাত হত্যার বিচার চাইলেন বাবা

আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।’  এভাবেই কেঁদে কেঁদে মেয়ের হত্যার বিচার চান নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মানিক।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে যখন নুসরাতের লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল চলছিল তখন বাইরে অপেক্ষমাণ বাবা এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তি দেয়া হলেই আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। নুসরাতের বাবা বলেন, আমার মেয়ে নিষ্পাপ। তাকে প্রথমে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তার প্রতিকার চেয়েছিল আামার মেয়ে। থানায় গিয়েছিল মামলা দিতে, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরবর্তীতে নৃশংসভাবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলছি…। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মোস্তফা কামাল ঢামেকে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘আমরা ঢাকা পিবিআই অফিস থেকে এসেছি। এখানে সুরতহাল ও পোস্ট মর্টেম হবে। মামলাটা যেহেতু ফেনীতে, পিবিআই ফেনী এ মামলার তদন্ত করবে।’ নুসরাতের লাশ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। জিডি নং-৬০২। তার লাশ গ্রহণ করতে নুসরাতের বাবা একেএম মানিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জেনারেল মাসুদ চৌধুরী ও সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। শাহবাগ থানা সুরতহাল রিপোর্ট লেখা শেষে ময়নাতদন্ত করবেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নৃশংসতা বিরল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে না ফেরার দেশে চলে যান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন- এমন অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সোমবার (৮ এপ্রিল) দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ঢামেকের ডাক্তাররা জানান, নাজুক শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব না। শনিবার রাতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে নুসরাত মারা যায়।

Filed in: জাতীয়