Monday October 15, 2018

বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা আর এক মাস

1116 বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা আর এক মাস

সময় কিন্তু বেশি বাকি নেই৷ আর মাত্র এক মাস৷ তারপরই অপেক্ষার পালা শেষ৷ ১৪ জুন রাশিয়ায় শুরু হয়ে যাবে বিশ্বকাপ ফুটবল, যা ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নামেও পরিচিত৷

বিশ্ব ব়্যাংকিংয়ে ১৯৭ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ, সমর্থকদের ব়্যাংকিং করা হলে নিশ্চয়ই শীর্ষ দশে জায়গা করে নিতো৷ কারণ, বিশ্বকাপের সময়টায় প্রায় সব শহরে বাসাবাড়ির ছাদে যেভাবে প্রিয় দলের পতাকা ওড়ান বাঙালি সমর্থকরা, তা সত্যিই অভাবনীয়৷ আর প্রিয় দল নিয়ে বন্ধু-প্রতিবেশীদের সঙ্গে চায়ের কাপ হাতে বিবাদে জড়ানোর আনন্দতো আছেই৷ সেই বিবাদে জয়ী হতে প্রিয় দল সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত জেনে রাখলে আপনারই সুবিধা৷ তাই ডয়েচেভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফুটবল প্রেমিদের জন্য এবারের বিশ্বকাপের কিছু তথ্য নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

এবার প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে৷ আয়োজন সফল করতে ইতিমধ্যে দেশটি খরচের বিশ্ব রেকর্ড করে ফেলেছে৷ আয়োজক ১১টি শহরের সংস্কারের পেছনে ১১ বিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে দেশটি৷ বিমানবন্দরগুলো সংস্কার ও প্রসারের কাজও হয়েছে এর মধ্যে৷

বিশাল দেশ রাশিয়া৷ এমনই বিশাল যে, সবচেয়ে পশ্চিম আর সবচেয়ে পুবের স্টেডিয়ামের দূরত্ব, মস্কো আর লন্ডনের মধ্যকার দূরত্বের সমান- প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার৷ আর বিশালত্ব বোঝাতে এই পরিসংখ্যানটিও দেয়া যেতে পারে৷ সেটি হচ্ছে, বিশ্বকাপের সবগুলো স্টেডিয়ামই দেশটির ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত৷

আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, ১১টি আয়োজক শহর চারটি পৃথক টাইমজোনে অবস্থিত৷ ফলে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া সমর্থকদের এবার এক স্টেডিয়াম থেকে আরেক স্টেডিয়ামে যেতে অনেক সময় লাগবে, ভোগান্তিও হয়ত বেশি হবে৷ যদিও সমর্থকদের কষ্ট লাঘবে রাশিয়া স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার জন্য বিনামূল্যে ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে৷ ফলে কেউ যদি একেবারে পুবের শহর ইয়েকাতেরিমবুর্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচের টিকিট কেটে থাকেন, তাহলে তিনি ইচ্ছে করলে মস্কো থেকে ঐ শহরে ট্রেনে বিনামূল্যে যেতে ও ফিরে আসতে পারবেন৷ জেনে রাখুন, এই দুই শহরের মধ্যকার দূরত্ব ১,৪১৬ কিলোমিটার৷ আর ট্রেনে শুধু একদিকে যেতেই সময় লাগবে কমপক্ষে এক দিন এক ঘণ্টা ১১ মিনিট!

রাশিয়ায় বিদেশি সমর্থকদের জন্য আরেকটি ভোগান্তির বিষয় হচ্ছে, সেখানকার প্রতিটি শহরে পৌঁছানোর একদিনের মধ্যে স্থানীয় পুলিশের কাছে নিজেদের তথ্য নিবন্ধন করাতে হবে৷ সেই সঙ্গে রুশ ফুটবল সমর্থকদের গুণ্ডামি ও বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের ইতিহাসের কথাও বিদেশি দর্শকদের মাথায় রাখতে হবে৷ যদিও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী, সমস্যা তৈরি করতে পারে এমন সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে৷

তবে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ হওয়াতে এবার বাংলাদেশের টিভি দর্শকদের সুবিধা হবে, কারণ, খেলাগুলো শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে রাত ১২টার মধ্যে৷ এর মধ্যে বেশিরভাগ খেলাই সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নয়টার মধ্যে শুরু হবে৷ ফলে সমর্থকদের রাত জাগার তেমন দরকার পড়বে না৷

Filed in: খেলাধুলা