Wednesday September 26, 2018

নিদাহাস ট্রফি ২০১৮: ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হতে এই চারজন মাশরাফীর টার্গেট

1218  নিদাহাস ট্রফি ২০১৮: ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হতে এই চারজন মাশরাফীর টার্গেট

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অঘোষিত সেমি-ফাইনাল জিতে স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ দল। প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলছে তারা। আর প্রথমবারে ট্রফিটাও জিতে নিতে চায় টাইগাররা। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত। মূল একাদশের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় না থাকলেও দারুণ শক্তিশালী দলটি। গ্রুপপর্বে তাদের বিপক্ষে দু’টি ম্যাচই হেরেছে টাইগাররা। তাই ফাইনালে কাজটা বেশ চ্যালেঞ্জিং সাকিব আল হাসানদের জন্য। তবে দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকেই মূল প্রতিপক্ষ মনে করছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে সংস্করণের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এ দুই খেলোয়াড়কে আগে আউট করতে পারলে জয়টা বাংলাদেশই পাবে বলে মনে করেন তিনি।

আর এমনটা বলবেনই না কেন মাশরাফী? ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ১৩৯ রানের সাদামাটা লক্ষ্য নিয়েই লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। তবে ধাওয়ানের ৫৫ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি টাইগাররা। ফিরতি পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশকে ডুবিয়েছেন রোহিত শর্মা। ৮৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে বড় সংগ্রহ এনে দেন দলকে। কম যাননি ধাওয়ানও। তিনিও করেছিলেন ৩৫ রান। দারুণ ফর্মেও আছেন ধাওয়ান। ১৮৮ রান করেছেন এখন পর্যন্ত। এ দুই ব্যাটসম্যান আগেও বড় ভোগান্তিতে ফেলেছেন টাইগারদের। তাই তাদের বিপক্ষে ভালো পরিকল্পনা চান মাশরাফী, ‘আমার কাছে মনে হয় রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান, এই দুইটা উইকেট যদি আমরা শুরুতে নিতে পারি তাহলে ম্যাচটা আমাদের হাতে থাকবে। ওরা সত্যিকার আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়। এই দুইজন নিয়মিত টি-টুয়েন্টি খেলে। ওদের দুইজনকে আউট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে ঠিক কি পরিকল্পনা করা উচিৎ তা বলেননি মাশরাফী। এটা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত বলেছেন তিনি। তবে রোহিত ও ধাওয়ানের পাশাপাশি দুই বোলার যুজবেন্দ্র চাহাল ও ওয়াশিংটন সুন্দরকেও কঠিন প্রতিপক্ষ মনে করছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। এই চারজন খেলোয়াড়কে আটকাতে পারলে জয়টা বাংলাদেশের পক্ষেই আসবে বলে মনে করেন তিনি, ‘ওখানে কোচ আছেন, অধিনায়ক আছে, সবাই মিলে একটা পরিকল্পনা করবে। তারাই জানেন ভালো কি করবে। তবে রোহিত ও ধাওয়ানের পাশাপাশি চাহাল এবং ওয়াশিংটনকে ঠিকভাবে খেলাটাও বড় ভূমিকা রাখবে। এই চারজন খেলোয়াড়ের জন্য পরিকল্পনাটা ভালোভাবে করলে আমাদের পক্ষে ম্যাচটা আসতে পারে।’

এছাড়াও পাশাপাশি টপ অর্ডার থেকে ভালো কিছু আশা করছেন মাশরাফী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি জয়ের ভিত শুরুতে তামিম ইকবালই করে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি, ‘টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে এবারের নিদাহাস ট্রফিতে দুটি জয় অন্যতম। মুশফিক যে ম্যাচটা জিতিয়েছিল, তারপর রিয়াদ যেটা করলো। লিটনও ভালো করেছে। তবে পুরো জিনিসগুলো সেট করে দিয়ে এসেছে তামিম। কাল হয়তো তামিম আউট না হলে আরও আগেই জিততে পারতাম। আমার মনে হয় শুরুতে ওইভাবে কাউকে ব্যাটিং করতে হবে, যেটা তামিম করে দিয়েছে। দুইটা ম্যাচেই জেতানোর জন্য তামিমের বিশাল অবদান আছে।’

টপ অর্ডারের পাশাপাশি একজনকে বিশেষ ইনিংস খেলতে হবে বলে মনে করেন মাশরাফী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচের উদাহরণ টেনে বললেন, ‘রিয়াদ যেভাবে খেলেছে সত্যি অসাধারণ। ১৮ বলে ৪৩ রান, সেটা ব্যাপার না কিন্তু মাঠে এসেই প্রথম থেকে যে আক্রমণটা করেছে সেটা ছিল অসাধারণ। ওইখানে কাউকে ঝুঁকি নিতে হতো সেখানে ও প্রথম বল থেকেই সেটা নিয়েছে। টি-টুয়েন্টি ম্যাচে আসলে এমনটা একজনকে খেলতে হয় তাহলে ম্যাচগুলো জেতা যায়। রিয়াদ যে যে ভূমিকাটা পালন করেছে এভাবে কাউকে খেলতে হবে। প্রত্যেকদিনতো ও আর খেলবে না। এভাবেই কিন্তু টি-টুয়েন্টি ম্যাচগুলো জেতে। ‘

নিজেদের কাজটা সঠিকভাবে করার কথা বলেছেন মাশরাফী, তবে প্রতিপক্ষের দুই ওপেনারকে হুমকি মানছেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে এ দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারলে প্রতিপক্ষ কোণঠাসা হয়ে যাবে মনে করেন তিনি। আগের ম্যাচের মতো শারীরিক ভাষাটা ফাইনালেও চাইছেন বাংলাদেশের সাবেক টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক।

Filed in: খেলাধুলা