Wednesday April 24, 2019

কী বেফাঁস কথায় ফেঁসেছেন ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া?

128 কী বেফাঁস কথায় ফেঁসেছেন ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া?

টেলিভিশন শো-তে মেয়েদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার জেরে ভারতীয় ক্রিকেটের দুই উদীয়মান তারকা, হার্দিক পান্ডিয়া এবং কে এল রাহুলকে ভারতীয় বোর্ড সাসপেন্ড করেছে তা-ও প্রায় চারদিন হল। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝপথেই ভারতীয় দলের সদস্য এই দুই ক্রিকেটারকে ফিরতি বিমান ধরে দেশেও ফিরে আসতে হয়েছে।

পঁচিশ বছর বয়সী হার্দিক পান্ডিয়া ইতিমধ্যেই নিজের মন্তব্যের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন – কিন্তু তাকে ও রাহুলকে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

এ বছরের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে আসন্ন আইসিসি বিশ্বকাপের আগে এই দুই ক্রিকেটারের কড়া শাস্তি দলকে সমস্যায় ফেলবে কি না, তা নিয়েও তর্কবিতর্ক চলছে বিস্তর। অনেকেই আবার বলেছেন, এই দুজন ক্রিকেটার – বিশেষ করে পান্ডিয়া – যে ধরনের মন্তব্য করেছেন তাতে অতি কঠোর শাস্তিই তাদের প্রাপ্য।

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং তো এমনও বলেছেন, এই দুজন যদি টিমবাসে থাকে তাহলে তিনি নিজের স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে কখনও সেই বাসে উঠবেনই না!

পান্ডিয়া-রাহুলের বিরুদ্ধে কতটা কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সেই প্রশ্নে আবার ভারতীয় বোর্ডে সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত দুই প্রশাসক – বিনোদ রাই ও ডায়ানা এডুলজির মধ্যেকার মতবিরোধও সামনে চলে এসেছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া সফররত ভারতীয় অধিনায়ক ভিরাট কোহলিও বলেছেন, মেয়েদের নিয়ে পান্ডিয়া ও রাহুল যে ধরনের ‘অনুচিত মন্তব্য’ করেছেন ভারতের ক্রিকেট টিম তা কখনওই সমর্থন করে না।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, ‘কফি উইথ করন’ নামে ওই জনপ্রিয় টেলিভিশন শো-তে হার্দিক পান্ডিয়া ও কে এল রাহুল ঠিক বলেছিলেন কী?

ওই ক্রিকেটারদের মন্তব্য নিয়ে আসলে এতই বিতর্ক হয়েছে যে ব্রডকাস্টার স্টার টিভি তাদের অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘হটস্টার’ থেকে ‘কফি উইথ করনে’র ওই এপিসোডটিই সরিয়ে দিয়েছে।

ইউটিউবেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ওই পর্বটির কোনও প্রামাণ্য ভিডিও। ‘সেক্সিস্ট’, নারীবিদ্বেষী বা বর্ণবাদী – নানাভাবেই বর্ণনা করা হচ্ছে হার্দিক পান্ডিয়া ও কে এল রাহুলের ওই সব মন্তব্যকে।

তবে ঘটনা হল, তারকা ক্রিকেটারদের উদ্দাম নারীসঙ্গ নিয়ে যে নানা ধরনের জল্পনা ও কাহিনি শোনা যায় – তারই এক বিচিত্র ও বিরল স্বীকারোক্তি ছিল ওই টেলিভিশন শো-তে।

নাইটক্লাবের পার্টিতে তিনি এত অগুনতি মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করেন যে তাদের নামও জিজ্ঞেস করা হয়ে ওঠে না, খোলাখুলি সে কথা সেখানে স্বীকার করেছিলেন পান্ডিয়া।

টেলিভিশন শো-র হোস্ট করন জোহর যখন জানতে চান সেটা কেন, হার্দিক পান্ডিয়া তখন জবাব দেন, “আমার আসলে অত নাম মনে রাখতে কষ্ট হয়।”

“আমি বরং আগে দেখতে ভালবাসি ওই মেয়েদের দোলচাল, চলাফেরা কেমন। আমি একটু ব্ল্যাক সাইড (কৃষ্ণাঙ্গ) ঘেঁষাই বলব, তাই ওদের নামের চেয়ে দুলুনিটাই আমার বেশি দেখার দরকার হয়!”

নিজের যৌন জীবন নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করার ভঙ্গীতে তিনি আরও বলেন, “যেদিন আমি প্রথম কৌমার্য ভঙ্গ করেছিলাম সেদিন বাড়ি এসে বলেছিলাম ‘ম্যায় করকে আয়া হ্যায় আজ’ (আমি আজ করে এসেছি)!”

এ কথা শোনার পর হোস্ট করন জোহরও নিজের বিস্ময় গোপন করতে পারেননি!

নিজের নারী-সঙ্গীদের নিয়ে বাড়িতেও যে তিনি ভীষণই খোলামেলা এবং গোটা ব্যাপারটাকে খুব ‘কুল’ বলে মনে করেন, হার্দিক পান্ডিয়া সেটা লুকোনোরও কোনও চেষ্টা করেননি।

“একটা পার্টিতে তো একবার আমার বাবা-মা তো জিজ্ঞেসই করে ফেলেন, আচ্ছা তেরা ওয়ালা কৌন সা? (তোর সঙ্গের মেয়েটি কোনজন?)”

“আমি তখন একে একে দেখিয়ে বলতে থাকি ইয়েহ, ইয়েহ, ইয়েহ (এইজন, এইজন, এইজন …)”

“…আর ওদের তখন যেন প্রতিক্রিয়া ছিল ‘ওয়াহ, প্রাউড অব ইউ বেটা’ (বা:, তোর জন্য গর্ববোধ হচ্ছে রে!)”, এভাবেই বাবা-মার কাছেও নিজের উদ্দাম নারীসঙ্গ জাহির করার বিবরণ দেন পান্ডিয়া।

হোস্ট করন জোহরের আর একটি প্রশ্নে দুই ক্রিকেটারের কাছ থেকে দুরকম উত্তর পাওয়া গিয়েছিল।

করন জোহর জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আচ্ছা তোমরা সবাই যদি একই মহিলাকে হিট করো, তাহলে শেষ পর্যন্ত কীভাবে ঠিক হয় (যে কার কপালে শিকে ছিঁড়বে)?”

কে এল রাহুল তাতে জবাব দেন, “সেটা তো মেয়েটার ওপরই নির্ভর করে”।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাকে থামিয়ে দিয়ে হার্দিক পান্ডিয়া বলে ওঠেন, “না না ওরকম কিছু মোটেও না। এগুলো আসলে ট্যালেন্ট বা প্রতিভা দিয়েই ঠিক হয়।”

“জিসকো মিলা ওহ লে কে যাও (যার জুটবে সেই মেয়েটাকে সঙ্গে নিয়ে যায়)!”, নাইটক্লাবের পার্টির রহস্যভেদ করে জানিয়ে দেন ভারতীয় দলের এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার।

গোটা কথোপকথনের সময় ছাব্বিশ বছর বয়সী কে এল রাহুলের মন্তব্য ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার তুলনায় অনেকটাই সংযত, কিন্তু তাকেও এখন পান্ডিয়ার মতোই শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।

আবার অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াকে অনেকেই ভারতীয় ক্রিকেটের লেজেন্ড কপিল দেবের সঙ্গেও তুলনা করে থাকেন, কিন্তু বাস্তবতা হল দীর্ঘ ক্রিকেট জীবনে নারীঘটিত বিতর্ক কখনওই কপিলকে তাড়া করেনি।

চোখ-ধাঁধানো গ্ল্যামার আর আইপিএল ‘আফটার-পার্টির’ যুগের পয়সাওয়ালা এই দুই ক্রিকেটারকে এখন মেয়েদের নিয়ে বেফাঁস কথা বলার চড়া মাশুলও দিতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Filed in: খেলাধুলা