Monday December 18, 2017

অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরে বেরোবি ভিসির

174 অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরে বেরোবি ভিসির

বেরোবি: অবশেষে অনেক অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরে গেলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসি একেএম নূর-উন-নবী।

শুক্রবার মধ্যরাত ১২ টা পর্যন্ত মেয়াদ ছিল নূর-উন-নবীর।বিদায়ের বেলাও অভিনব নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে গেলেন সদ্য সাবেক হওয়া এ ভিসি।

শুক্রবার সকাল ১০টা, অতঃপর বিকেল ৪ টা,তারপর সকল জল্পনা-কল্পনা শেষে বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে রাত ১২ টা ২০ মিনিটে সাড়ে চার একর জায়গার নিজ বাসভবন ত্যাগ করে গেটের সামনে এসে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়ার ভয়ে এক নাটকীয়তার নজির স্থাপন করেন নূর-উন-নবী।

 প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,তিনি যখন গেটে আসেন তখন তিনি বাইরে সাংবাদিকদের দেখতে পান।পরে তিনি পিছনের গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।কিন্তু সেখানেও সাংবাদিকরা ছিল।ফলে পুনরায় তিনি মেইন গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।কিন্তু আবারো তিনি ব্যর্থ।আবশেষে পুলিশের দ্বারা সাংবাকিদের সরিয়ে দিয়ে বাসভবন ত্যাগ করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকসহ চ্যানেল-২৪, ডিবিসি ও রংপুরের খবরের সাংবাদিকসহ আরো অনেকে।
ভিসি একেএম নূর-উন-নবীর বিরুদ্ধে অর্থ নয়ছয় করাসহ অনেক অনিয়মের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল।

এর আগে চাকরি দাবিকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ১৩ ঘণ্টা অবরোধের মুখে ছিলেন তিনি।

অধ্যাপক নূর-উন-নবীর মেয়াদ শেষ হওয়ার দুদিন আগে গত বুধবার সকালে উপাচার্যকে অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ঘেরাও কর্মসূচির পরই অধ্যাপক নূর-উন-নবীর বিরুদ্ধে ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ইউজিসি কর্মকর্তারা বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যাপক নূর-উন নবীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আপ্যায়ন খরচ, ভর্তি পরীক্ষার সম্মানি হিসেবে ‘অনৈতিকভাবে’ বিপুল অংকের অর্থগ্রহণ এবং একটির স্থলে ঢাকা এবং রংপুরে তিনটি গাড়ি ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কোষাধাক্ষ্যসহ একাই ১৪ পদ আকড়ে থেকে ‘অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন’ এমন ১৬টি তথ্য উঠে আসে ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে।

তবে অধ্যাপক নূর-উন নবী ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তার ভাষ্য, “ইউজিসির প্রতিবেদন ‘পক্ষপাতমূলক’ । শিক্ষকদের একটি পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তার সঙ্গে তদন্ত কর্তৃপক্ষ সময় নিয়ে কথা বলে অনুসন্ধান করেনি।”

তার মতে, “এই তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।” তার আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগের দাবির মুখে আগের উপাচার্য আব্দুল জলিল মিয়াকে সরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক নূর-উন নবীকে ২০১৩ সালের ৬ মে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। শুক্রবার তার মেয়াদের শেষ দিন ছিল।

Filed in: ক্যাম্পাস