Friday August 23, 2019

দিনাজপুরে চাষ হচ্ছে নিষিদ্ধ পপি

৫7 দিনাজপুরে চাষ হচ্ছে নিষিদ্ধ পপি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ পপি ক্ষেতের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিষেধ থাকা স্বত্তেও পপি চাষ চচ্ছে । এখনি নজরদারি ও সচেতনতা না বাড়ালে এ চাষের বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন সচেতন মহল। পপি থেকে সংগ্রীহিত হয় আফিম,যা প্রক্রিয়াজাত করে মরফিন ও হিরোইন নামক মরন নেশা তৈরী হয়। এছাড়াও এ থেকে প্রাপ্ত কোডিন ফেন্সিডিল তৈরীতে ব্যবহার হয়।

বাংলাদেশে পপি চাষ নিষিদ্ধ। এধরনের কাজের শাস্তি সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সবোর্চ্চ ১৩ বছর। বাংলাদেশের কাস্টমস আইনেও পপিবীজ আমদানি সম্পুর্ন রুপে নিষিদ্ধ। পৃথিবীতে ভারত ব্যাতীত আফগানস্তান,পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্ক সহ বেশকিছু দেশে মাদক মাফিয়ারা গোপনে পপি চাষ করে থাকে। ভারতে সরকারী নিয়ন্ত্রণে পপি চাষ করা হলেও গোপনে প্রত্যন্ত এলাকা ও সীমান্তের নো-ম্যান্স লান্ডের কিছুকিছু জায়গায়  মাদক মাফিয়ারা পপি চাষ করে থাকে।

দিনাজপুর শহর থেকে ৫৩ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুরের নবাবগজ্ঞ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়ন। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও রাস্তাঘাট অনুন্নত হওযায় এই উপজেলার সাথে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সেভাবে গড়ে উঠেনি। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর গোপন সংবাদের ভিক্তিতে পপি চাষের সন্ধান পায় নবাবগজ্ঞ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নে। রহিমাপুর গ্রামে লোকালয়ে এক সাথে পপি চাষ করা হয়েছে ৫ বিঘা জমিতে।

উপজেলা প্রশাসন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিজিবির যৌথ অভিযানে পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হয়। পাশের গ্রাম মির্জাপুর, নয়াপাড়া,ডাংগা পাড়া ও আফতাবপুর সহ বিক্ষিপ্তভাবে আরো ৩ বিঘা জমির পপি ধ্বংস করা হয়। প্রায় ৩ বছর থেকে পপি চাষ হচ্ছে বলে এলাকাবাসি জানায়। পপি ক্ষেত দেখে বলে দেয়া যায়,নবাবগঞ্জের মাটি পপি চাষের উপযোগি। উৎপাদিত পপির পডের আকারও অনেক বড়।

আফতাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পপি চাষ করা হলেও  পুলিশ সদস্যরাও জানেন না এটি পপির ক্ষেত। পপি ধ্বংস করার সময় জমির মালিকরাও জমিতে আসেননি। এলাকাবাসি বলছে, তারা পপি হিসাবে এটিকে জানেন না। তারা জানেন এটি পোস্ত দানার ক্ষেত। পোস্ত দানা মাংসের মসলা হিসাবে ব্যাবহার হয়। পপির বীজ থেকে তৈরী ভর্ত্তা খুব সু-স্বাদু। ভর্ত্তা খাওয়ার জন্য তারা এই চাষ করেছে বলে গ্রাম বাসি জানায়। কিভাবে এই নিষিদ্ধ পপির বীজ আসলো তার কোন সঠিক উত্তর গ্রামবাসি দিতে পারেন নি।

মাদক বিশ্লেষকদের মতে, এক সাথে এত জমিতে পপি চাষ উদ্বেগ জনক। পপি চাষের পিছনে মাদক ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্ঠতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চাষকৃত পপি ক্ষেত সমুহ হতে আফিম আহরনের কোন লক্ষন দেখা যায়নি। এদিকে মাঠে পপি চাষ হলেও দিনাজপুর কৃষিবিভাগের মাঠকর্মকর্তারাও নিষিদ্ধ পপি চাষের ব্যাপারে নির্বিকার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন এব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিকে লোকালয়ে নিষিদ্ধ পপি চাষের বিষয়টি উদ্বেগ জনক বলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহনেওয়াজ বলেন, কৃষকেরা না জেনে পোস্তমসলা হিসাবে এটি চাষ করেছে। চাষকৃত সকল পপি ক্ষেত ধ্বংসকরা হয়েছে।পপি চাষের বিস্তার প্রতিরোধে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর  আন্তরিক ভাবে কাজ করছে।

 

 

 

Filed in: কৃষি ও কৃষকের খবর