রমজান প্রতিদিন গুনাহ মাফ ও রমজান | oknews24 a leading online newsportal
Wednesday August 22, 2018

রমজান প্রতিদিন গুনাহ মাফ ও রমজান

136   রমজান প্রতিদিন গুনাহ মাফ ও রমজানমঙ্গলবার ১৯ রমজান। মাগফেরাতের দশক শেষ হতে মাত্র আর বাকি একটি দিন। এখন সিয়াম সাধনা প্রান্ত সীমার দিকে। মুমিন বান্দার প্রিয়তম এ মাসটি আস্তে আস্তে বিদায় নিতে চলেছে।

রমজানের এই দশকটিকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গোনাহগার মুসলমানদের পাপ মোচনের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এক দশক রোজা রাখার পর রমজানের এই দ্বিতীয় দশকে পাপী-তাপী মুসলমানরা ক্ষমার যোগ্য হয়ে ওঠেন। তাই এ দশকে গোনাহগারদের ক্ষমা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে রমজানজুড়েই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পাপীদের ব্যাপকহারে ক্ষমা করে থাকেন। বিভিন্ন হাদিসে অন্তত সেটাই প্রমাণিত হয়। হজরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) বলেন, একবার রমজানের কিছু পূর্বে একদিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করলেন, তোমাদের সামনে রমজান আসন্ন। এ মাস অত্যন্ত বরকতের মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। রহমত বর্ষণ করেন এবং গোনাহ মাফ করেন।… (তাবরানী) কোনো কোনো হাদিস দ্বারা জানা যায়, রমজানের প্রতিদিনই জলের মাছ রোজাদারদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, রমজান উপলক্ষে আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি বস্তু দেয়া হয়েছে যা পূর্ববর্তী উম্মতদের দেয়া হয়নি। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মৃগনাভী থেকেও অধিক পছন্দনীয় এবং জলের মাছ রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।… (মুসনাদে আহমদ, বায়হাকী) রমজানে বিভিন্ন আমলের বিনিময়ে রোজাদারদের ক্ষমা করা হয় বলেও বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়। যেমন রোজাদারদের ইফতার করালে গোনাহ মাফ হয়। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার গোনাহ মাফ হবে। তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে এবং সে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। এতে সে রোজাদারের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না। এই হাদিসেই রাসূল (সা.) আরও বলেন, রমজানে যে ব্যক্তি তার মালিকানাধীন দাস-দাসী বা অধীনস্থ মজুরদের দায়িত্ব হালকা করে দেবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। শবেকদরে রাত জেগে ইবাদত করার দ্বারাও পাপ মোচন হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে সওয়াবের আশায় শবেকদরে রাত জেগে ইবাদত করবে তার অতীতের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি, মুসলিম) মোটকথা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছুঁতোয় মানুষকে ক্ষমা করতেই চান। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, … এবং জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম সহনশীল। (বাকারা : ২৩৫) আরও ইরশাদ হচ্ছে, বলুন হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ- আল্লহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না। আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করেন তিনি তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (যুমার, ৫৩)

আল্লাহ তায়ালা প্রতিদিনই মানুষকে ক্ষমা করার জন্য আহ্বান করে থাকেন। ইরশাদ হচ্ছে, … তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করেন তোমাদের পাপ মার্জনা করার জন্য। (ইবরাহিম, ১০) পবিত্র রমজান, বিশেষত রমজানের দ্বিতীয় দশক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি সাধারণ ক্ষমার সময়। আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই দশকে অধিক হারে নেক আমল করে মহান আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি তওবা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা। কারণ মারাত্মক কবীরা গোনাহ করেও আল্লাহর দরবারে তওবা করলে তিনি ক্ষমা করেন। ইরশাদ হচ্ছে এবং আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং সৎ পথে অবিচলিত থাকে। (ত্বা-হা, ৮২) আরও ইরশাদ হচ্ছে, কেউ কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে ক্ষমাশীল পরম দয়ালু পাবে। (নিসা : ১১০) তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (মুজ্জাম্মিল : ২০) রমজানের মতো এত বড় ক্ষমার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও যদি আমরা আমাদের পাপ মোচন করাতে সক্ষম না হই তাহলে তা হবে মারাত্মক দুর্ভাগ্যের বিষয়।

এটা মনে রাখতে হবে বুজুর্গ পাঠক, যারা খোদার সামনে বিনীত হতে লজ্জাবোধ করে, লোকলজ্জায় দোয়া করে না, দোয়ায় অন্যমনষ্ক ও উদাসীনতা বিরাজ করে কিংবা গর্ব ও অহঙ্কারে দোয়া-মোনাজাত এড়িয়ে যায়, তার শাস্তি প্রসঙ্গে খোদাবন্দ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যারা গর্ব ও অহঙ্কারে নিমজ্জিত হয়ে আমার ইবাদত করা থেকে বিমুখ থাকে, তারা সত্বরই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ অন্যত্র বলেছেন, তার জন্য আল্লাহর কোনো দায়দায়িত্বই নেই। ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে নবী!) বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে না ডাক তোমাদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালকের কী প্রয়োজন পড়েছে?’ (সুরা ফুরকান : ৭৭)

আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.) এবং আউলিয়ায়ে কেরাম (রহ.) খোদার কাছে বেশি বেশি দোয়া ও কান্নাকাটি করতেন। দোয়া, কান্নাকাটি ও অনুনয়-বিনয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনই ছিল তাদের প্রকৃত চাওয়া-পাওয়া। শুধু রমজানে নয়, সারা বছর তাদের দৈনন্দিন আমলি জিন্দেগিতে অজিফা, জিকর, দোয়া ও মোনাজাত রুটিন কাজ ছিল।

আমাদেরও উচিত রমজানে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে নিজেদের গোনাহখাতা মাফ করিয়ে নেয়া। মহানবীর (সা.) উচ্চারণ, ‘রমজানে যে ব্যক্তি নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারে না, তার চেয়ে হতভাগ্য আর নেই। এ ধমকি থেকে যেন আমরা রেহাই পেতে পারি। দীন-দুনিয়ার তাবত্ কল্যাণে যাতে কাজ করে যেতে পারি, খোদার কাছে সেই তাওফিক কামনা করছি। আমিন,সুত্র:দি রিপোর্ট২৪

Filed in: ইসলাম ও জীবন ধারা