Saturday October 20, 2018

আমার কোনো অ্যাটর্নি জেনারেল নেই : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের বিরুদ্ধে এযাবতকালের সবচেয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার হিল ডট টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেশনসকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “আমার কোনো অ্যাটর্নি জেনারেল নেই।এটি খুবই দুঃখজনক।”

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে চলমান তদন্ত থেকে সেশনসের সরে যাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে এটিই ট্রাম্পের করা সবচেয়ে কঠোর মন্তব্য।

রাশিয়া বিষয়ক তদন্ত থেকে সেশনসের সরে যাওয়ায় ‘খুবই হতাশ’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে অভিবাসন বিষয়ে সেশনসের কর্মকাণ্ডেও নিজের অসন্তুষ্টির কথাও স্পষ্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

117 আমার কোনো অ্যাটর্নি জেনারেল নেই : ট্রাম্প

অ্যাটর্নি জেনারেলকে বহিষ্কারের চিন্তা করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা দেখবো কি করা যায়। অনেকেই আমাকে এটা করতে বলছেন। কিছু বিষয়কে আমি নিজের মতো চলতে দিতে চাই, কিন্তু তিনি যা করেছেন তা সত্যিই অনুচিত ছিল।’

অভিবাসন এবং অন্যান্য ইস্যুতেও সেশনসের কার্যক্রমে তিনি ‘খুশি নন’ বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ট্রাম্প। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগের সময়ও সেশনসের পারফরম্যান্স ‘খুবই দুর্বল’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেশনস কিছু বলেননি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দায়িত্বরত কোনো প্রেসিডেন্টের পক্ষে তার অ্যাটর্নি জেনারেলকে আক্রমণ করার ঘটনা বেশ অস্বাভাবিক। এর মাধ্যমে ট্রাম্প আইনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ সমালোচকদের।

গত মাসেও সেশনসের বিরুদ্ধে সমালোচনার তীর ছুঁড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেসময় ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অ্যাটর্নি জেনারেলকে চাকরিচ্যুত করতে চাইলে, তাতে সমর্থন দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন প্রভাবশালী দুই রিপাবলিকান সিনেটর।

যদিও বেশ কজন রিপাবলিকান মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনো চেষ্টাকেই ‘বাজে পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হবে; তেমনটা হলে সেশনসের পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

ট্রাম্পের আগের সমালোচনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন সেশনস। তিনি বলেছিলেন , ‘যতক্ষণ আমি অ্যাটর্নি জেনারেল, বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক বিবেচনার দ্বারা অন্যায্যভাবে প্রভাবিত হবে না। আমি সর্বোচ্চ মান চাই, যে ক্ষেত্রে তা হয় না, আমি ব্যবস্থা নিই’।

প্রথমদিক থেকেই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সমর্থক ছিলেন সেশনস।রিপাবলিকানদের জয়ের পর ‘আনুগত্যের পুরস্কার’ হিসেবে মেলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনী কর্মকর্তার পদ।

তারপরও ২০১৭ সালে রাশিয়া বিষয়ক তদন্ত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন এ অ্যাটর্নি জেনারেল। ন্যায়বিচারে ট্রাম্প বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তদন্ত কর্মকর্তারা তাও খতিয়ে দেখছেন।

Filed in: আন্তর্জাতিক