Thursday December 16, 3751

ভারতের উপজাতি তরুণদের উদ্যোক্তা হতে আহ্বান ড. ইউনূসের

 ভারতের উপজাতি তরুণদের উদ্যোক্তা হতে আহ্বান ড. ইউনূসের
ঝাড়খন্ড: নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে, শিক্ষার্থীদেরকে চাকরী খোঁজার পরিবর্তে বরং উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত জামশেদপুরে টাটা স্টীলের সিগনেচার ইভেন্ট সামভাদের সমাপনী দিনে ভারতের সকল অঞ্চল থেকে আগত বিপুল সংখ্যক উপজাতি তরুণ-তরুণী, উন্নয়ন কর্মী ও বিজ্ঞজনদের উদ্দেশ্যে তিনি একথা বলেন। এই সমাবেশের উদ্দেশ্য উপজাতি সত্ত্বার উপর সংলাপ ও আলোচনাকে উৎসাহিত করা।
নভেম্বরের ১৪-১৯ তারিখে জামশেদপুরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমবারের মতো অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা ও কেনিয়া থেকে আন্তর্জাতিক উপজাতি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার দিন ব্যাপী এই সমাবেশের মূল বিষয়বস্তু ছিল উপজাতি তরুণদের আশা-আকাংখ্যা। উত্তর-পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের ২০টি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে উপজাতি তরুণ-তরুণীরা এতে অংশ নেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, “পুঁজিবাদী কাঠামোর উপর গড়ে ওঠা আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধরে নেয়া হয় যে, মানুষকে অন্যের চাকুরী করে জীবন ধারণ করতে হবে। কিন্তু আমাদের জন্ম এজন্য হয়নি।”
উপজাতি তরুণদের স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করে তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদেরকে অন্যের কর্মচারী হতে শিক্ষা দেয়। কিন্তু তাদের উচিত কর্মচারী বা উদ্যোক্তা দু’টো হবারই শিক্ষা দেয়া। আমরা মানুষকে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছি আর এ কারণে আমরা ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দিতে শুরু করি। আজ গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ৯০ লক্ষ যাদের ৯৭ শতাংশই নারী।
তিনি আরো বলেন, “আমাদের নতুন করে শিখতে হবে এবং চাকরী পাবার চেয়েও বড় কিছু চিন্তা করতে হবে এবং আমাদের উদ্যোক্তা হতে হবে। ভবিষ্যতে আমাদের অনেক কাজই দখল করে নেবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। মানুষ ব্যাপকভাবে বেকার হতে থাকবে।”
“শূন্য দারিদ্র, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নীট কার্বন নিঃস্বরণের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের প্রয়োজন সামাজিক ব্যবসা। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটি এই ধারণার উপর দাঁড়িয়ে আছে যে, মানুষ একটি স্বার্থপর জীব। এই ধারণাটি ভুল যার পরিবর্তন প্রয়োজন,” তিনি বলেন।
রাজ্য সভা সদস্য ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম ১৮ নভেম্বর মুম্বাই সাহিত্য উৎসবে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নতুন গ্রন্থ “অ ডড়ৎষফ ড়ভ ঞযৎবব তবৎড়ং” উদ্বোধন করেন। এর পরপরই অনুষ্ঠিত হয় একটি প্যানেল আলোচনা যেখানে অংশ নেন কংগ্রেসের সাবেক ক্যাবিনেট মন্ত্রী জয়রাম রমেশ, ভারতে বুকলিংক ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান বিক্রম সিং মেহতা, এইচএসবিসি ভারতের প্রাক্তন কান্ট্রি চীফ নায়না লাল কিদওয়ায়ি ও প্রফেসর ইউনূস।
টাটার বিভিন্ন কোম্পানীর শীর্ষ নির্বাহীরা মুম্বাইতে প্রফেসর ইউনূসের সাথে পৃথক পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও প্রফেসর ইউনূস “ইন্ডিয়ান কর্পোরেট অ্যাকশন ট্যাংক”-এর সভায় যোগদান করেন। উল্লেখ্য যে, ইন্ডিয়ান কর্পোরেট অ্যাকশন ট্যাংক সামাজিক ব্যবসা উদ্ভাবন ও এ সংক্রান্ত কর্মসূচির জন্য নেতৃস্থানীয় ভারতীয় কোম্পানীগুলোর একটি শীর্ষ পর্যায়ের কর্পোরেট অ্যাকশন গ্রুপ।
টাটার বিভিন্ন কোম্পানীর শীর্ষ নির্বাহীরা জামশেদপুরে প্রফেসর ইউনূসের সাথে পৃথক পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও প্রফেসর ইউনূস “ইন্ডিয়ান কর্পোরেট অ্যাকশন ট্যাংক”-এর সভায় যোগদান করেন। উল্লেখ্য যে, ইন্ডিয়ান কর্পোরেট অ্যাকশন ট্যাংক সামাজিক ব্যবসা উদ্ভাবন ও এ সংক্রান্ত কর্মসূচির জন্য নেতৃস্থানীয় ভারতীয় কোম্পানীগুলোর একটি শীর্ষ পর্যায়ের কর্পোরেট অ্যাকশন গ্রুপ।
Filed in: অর্থ-বানিজ্য